
পার্ট-১ (ভারত):
২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারি পর্যায়ে ইতিহাস পুনর্লিখনের ধারাবাহিক চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের মোগল আমলকে নিশানা করে এমন চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পাঠ্যপুস্তক পুনর্লিখনের মধ্য দিয়ে ভারতের ইসলামি শাসকদের ইতিহাস কম গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেসব শহর ও সড়কের নাম মোগল আমলে দেওয়া নামে পরিচিত ছিল, সেগুলোর নতুন নামকরণ করা হয়েছে। সরকারি জমিতে বেআইনি দখলের অভিযোগে বা কথিত দাঙ্গার শাস্তি হিসেবে মুসলিমদের স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। সাম্প্রতিক শুরু হয়েছে তাজমহল নিয়ে। ইতিমধ্যে “তাজ” নামে একটা সিনেমা তৈরি হয়েছে যেটাতে তাজমহল নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এমন অনেক চলচ্চিত্র তৈরি করছে, যা খুব সচেতনভাবে ঐতিহাসিক মুসলিম চরিত্রগুলোকে খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করছে। এটি স্পষ্টতই একটি রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে মিলে যায়। এটি এমন একধরনের অপকৌশল, যা খুব খুব বিপজ্জনক।
পার্ট-২ (বাংলাদেশ):
ইন্ডিয়ায় যেমন মোগল আমলের ইতিহাস পাল্টে দেয়ার জন্য বিজেপি সরকারের মদদে বিভিন্ন প্রজেক্ট হাতে নেয়া হচ্ছে তেমনি ভাবে আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ও গৌরবময় অর্জন “মহান মুক্তিযুদ্ধে” থাবা বসানোর পরিকল্পনা করছে একদল শকুন।
আর এদের পিছনে ফুয়েল যোগাচ্ছে ধর্মভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দল। তাদের ৭১ সালে ভুমিকা ছিলো হায়েনার মত কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণের কাছে তারা পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়। সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে নিয়োগ করেছে দেশি-বিদেশি কিছু কুলাঙ্গারদের। বিদেশ থেকে পিনাকী-ইলিয়াসরা যেমন আছে তেমন ব্যারিষ্টার শাহরিয়ার কবির- আমিরহামজা- কাজী ইব্রাহীমরা আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দিতে। যারা আজ আমাদের মহান অর্জন “মুক্তিযুদ্ধ” নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস দেখাচ্ছে।
ইদানিং কালে বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তারা আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে।
টিভি টকশো, ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক, বিভিন্ন ব্লগগুলোতে তাদের সরব উপস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছে তারা কতটা মরিয়া হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বদলে দিতে।
তারা প্রশ্ন তুলছে আমাদের বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলো নিয়ে। কাজী ইব্রাহীম নামের এক ইসলামী বক্তা তো আরো এককাঠি সরেস।
সে জাতির সুর্য সন্তানদের নিয়ে চরম অপমান জনক কথা বলার সাহস দেখিয়েছে। এদের এখনি ঠেকাতে না পারলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মেধা-মনন থেকে মুক্তিযুদ্ধ মুছে যেতে বাধ্য।
একাত্তর প্রজন্ম ছিল ‘নিকৃষ্টতম প্রজন্ম’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী বক্তা কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘একাত্তর প্রজন্মের মতো খারাপ প্রজন্ম মনে হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে ছিলো না। একাত্তর প্রজন্মটা এতো মিথ্যুক, এদের নেতা মিথ্যুক, এদের কর্মী মিথ্যুক, এদের সমর্থক মিথ্যুক, এদের যুদ্ধ মিথ্যা, এদের স্বাধীনতা মিথ্যা, এদের সবকিছু মিথ্যা।’ সুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ১১/১২/২০২৫
জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন।। রুখে দিন এসব কন্ঠস্বর।