বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
যুবদলের ৩১ সদস্যের কমিটি গঠনের পরেরদিন ১৬ নেতার পদত্যাগ বিএপি’র সরকারে থাকছে না ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেউই ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ হওয়ার শঙ্কা, ইরানে হামলা বন্ধ করল ট্রাম্প কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি, ভাইয়া ব্রডকাস্টের এজিএম হলেন রাকিবুল ইসলাম; সম্মাননা ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা আগরতলায় ভারত–বাংলাদেশ গণমাধ্যম সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক গোলটেবিল বৈঠক জামিল-মুনমুনের নতুন নাটক ‘আজব শহর’ নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারে আইনি সীমাবদ্ধতার কথা জানালেন জোহরান মামদানি প্রবাসের ব্যস্ততায়ও বাংলার মাটির সুরে শম্পা দেওয়ান নির্মাতা মেহেদী হাসান মুকুল এর জন্মদিনে আবেগঘন বার্তা বেলাবোতে টানা বৃষ্টিতে বীর মুক্তিযোদ্ধার মাটির ঘর ধসে গেছে

পপতারকা শাকিরা বাংলাদেশে এসে যে কারণে কেঁদেছিলেন

বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশ সময় : শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬
কলম্বিয়ান পপতারকা শাকিরা। ছবি- সংগৃহীত
এ মুহূর্তে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্ব কাঁপে ফুটবলে। আর সেই উন্মাদনাও ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে। ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই মাঠের লড়াইয়ের সঙ্গে কথার লড়াই। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চ মাতিয়েছেন কলম্বিয়ান পপতারকা শাকিরা। যার কণ্ঠ আর গ্ল্যামার বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের মনে ভেসে ওঠে। তার গান নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বর্তমানে এ পপতারকা একাধিক কারণে খবরের শিরোনামে হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— সাম্প্রতিক ফুটবলের উদ্বোধনী মঞ্চে তার পারফরম্যান্স ঘিরে তৈরি হওয়া ‘বডি ডাবল’ ব্যবহারের গুজব।
এ ছাড়া স্পেনের কর ফাঁকি-সংক্রান্ত মামলা। স্পেনে বসবাসের সময় কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ ও আইনি ঝামেলা শাকিরার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বিতর্ক। অভিযোগের মুখে স্পেনের কর কর্তৃপক্ষকে ‘ইনকুইজিশন’ বা ধর্মীয় আদালতের সঙ্গে তুলনা করে তীব্র সমালোচনা করেন এবং আইনি চুক্তি ও জরিমানার মাধ্যমে স্পেনের বার্সেলোনার সেই বিচারের নিষ্পত্তি করেন।
এ ছাড়া জেরার্ড পিকের সঙ্গে  বিচ্ছেদ এবং স্পেনে তার নিজস্ব স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা। স্প্যানিশ ফুটবলার জেরার্ড পিকের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তাদের তিক্ততা তুঙ্গে ওঠে। সাবেক সঙ্গীকে ইঙ্গিত করে গানে ঠোঁট মেলানোর কারণে ভক্ত ও সমালোচকদের মাঝে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
আর নিজের ওয়ার্ল্ড ট্যুরের সমাপ্তি টানতে স্পেনে সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে একটি অস্থায়ী স্টেডিয়াম তৈরির নজিরবিহীন পরিকল্পনা ঘোষণা করে ভক্তদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের জন্ম দেন শাকিরা।
ফুটবল বিশ্বকাপের সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়া এ কলম্বিয়ান তারকাকে নিয়ে এখন জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর সামাজিক মাধ্যমে একটি অদ্ভুত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বা কনস্পিরেসি থিওরি ছড়িয়ে পড়ে। অনেক নেটিজেনের দাবি— মঞ্চে স্বয়ং শাকিরা নন; বরং তার কোনো ‘বডি ডাবল’ বা রূপধারী ক্লোন পারফর্ম করেছে।
আজ বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যে যখন শাকিরার পারফর্ম ও গ্ল্যামার নিয়ে তুমুল আলোচনা, ঠিক তখনই অনেকে হয়তো জানেন না প্রায় দুই দশক আগে এই শাকিরাই বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের গল্প শুনেছিলেন। তাদের সঙ্গে হেসেছিলেন, কেঁদেছিলেন এবং তাদের স্বপ্নগুলোকে নিজের হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন।
তাই পপতারকা শাকিরার এ বিশ্ব সমালোচনায় বাংলাদেশের সংগীতপ্রেমীদের কোনো যায় আসে না। পরিচিত মুখ শাকিরাকে ভালোবাসেন বাংলার সংগীতপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও। তবে বিশ্বমঞ্চ কাঁপানো পপ সংগীতশিল্পী দুই দশক আগে নীরবে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা দেখে আবেগাপ্লুতও হয়েছিলেন। প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’-এর আঘাতে তখন লণ্ডভণ্ড বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, ঠিক সেই সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) বৈশ্বিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তিন দিনের এক আকস্মিক সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন পপতারকা শাকিরা।
২০০৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর পর দ্রুত ছুটে যান বিধ্বস্ত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে; পটুয়াখালীর সিডর-আক্রান্ত এলাকা ঘুরে দেখেন। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও শিশুদের গল্প শোনেন, তাদের কষ্ট অনুভব করার চেষ্টা করেন। সেখানে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
সিডরে মা-বাবাকে হারানো ১১ বছর বয়সি নিপা নামে এক মেয়ের মুখে একটি শোকের গান শুনেছিলেন শাকিরা। পরে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেছিলেন— মেয়েটি তাকে বাংলায় একটি গান শুনিয়েছিল, যার অর্থ ছিল— ‘মা, তুমি যেখানেই থাকো, আমাকে একটি চিঠি লেখো।’ সেই কণ্ঠ তিনি কখনো ভুলতে পারবেন না বলেও জানিয়েছিলেন।
শাকিরা বলেছিলেন, ‘তবে খানিক স্বস্তির ব্যাপার ছিল এখানে যে, এসব দুর্যোগ, দুঃখ আর শোকের মাঝে আমি এই আধা-ধ্বংসপ্রাপ্ত স্কুলটিতে শিশুদের খেলতে, গাইতে আর হাসতে দেখেছি। শিশুদের মুখে ডাক্তার ও নার্স হওয়ার স্বপ্নের কথা শুনে আমার খুব ভালো লেগেছে…, তাদের সবারই ইতিবাচক স্বপ্ন ছিল।’
সিডরের ভয়াবহতা কাছ থেকে দেখে শাকিরা গভীরভাবে মর্মাহত হন। তিনি বলেছিলেন, পুরো গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে দেখে আমি বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। তাদের যা কিছু ছিল, সব শেষ হয়ে গেছে…, এই দৃশ্য আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এতগুলো মানুষের জীবনহানি…, যে মায়েরা তাদের সন্তানদের হারিয়েছেন, তাদের মুখ আমি কখনো ভুলব না।
সফরের অংশ হিসেবে রাজশাহীতে ইউনিসেফের একটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন, যেখানে ‘দুর্গম অঞ্চলের শিশুরা’ রাস্তাঘাট থেকে দূরে বিভিন্ন কেন্দ্রে দিন কাটায়। শাকিরা ১৮ বছর বয়স থেকে শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন, যখন তিনি ‘পিয়েস দেসকালসোস’ নামে একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন, যার স্প্যানিশ অর্থ ‘খালি পা’।
শাকিরার এই সফরটি ছিল অনেকটাই আড়ালে। ইউনিসেফের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এটি ছিল শিল্পীর নিজের ইচ্ছা। তিনি প্রচার-প্রচারণার চেয়ে বাংলাদেশকে কাছ থেকে দেখতে এবং মানুষের বাস্তব জীবন জানতে বেশি আগ্রহী ছিলেন। যদিও শিশুদের প্রতি তার এই দায়বদ্ধতা নতুন কিছু নয়।
বাংলাদেশ সফর শেষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শাকিরা বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ ও শিশুদের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ প্রয়োজন। সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহায়তাই পারে তাদের পাশে দাঁড়াতে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ নাহিন খান
raytahost-tmnews71