রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মাছপাড়া কলেজে গুণীজন সংবর্ধনা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আজ পাংশায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনে মন্ত্রী-উপদেষ্টাসহ প্রতিনিধি দল ‎রাষ্ট্র সংস্কার ও আইন-শৃঙ্খলা পুনর্গঠনে ছয় মাস ওরা বাবাকে জেলের ভেতরেই মেরে ফেলতে চায়: ইমরান খানের দুই ছেলের শঙ্কা হাসনাবাদ হাই স্কুলের এডহক কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ শরীফ হোসেন খান বিশ্বে সর্বোচ্চ বেতন পান যে দেশের প্রধানমন্ত্রী বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ঝাঁড়লেন পরীমনি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী উত্তর হালিশহরের প্রাচীন মসজিদ সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও আজীবন ভোগদখল করবেন বাবা-মা এলাকার উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নয়, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ: মোঃ আল আমিন খান

কমদামে জমি বিক্রি না করায় জমিতে বড় গাছ লাগিয়ে ফসল চাষে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ

দুলাল সরকার
  • প্রকাশ সময় : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

দুলাল সরকার, বেলাবো (নরসিংদী) প্রতিনিধি: বটিবন্দ গ্রামের একটি জমির পাশে প্রতিবেশির লাগনো বড় বড় কয়েকটা কড়ই গাছ। যার কারনে জমিতে কোন ফসল ফলাতে পারেনা জমির মালিক প্রবাসী সুজন মিয়া। একারনে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রবাসী সুজন মিয়ার স্ত্রী হাসিনা আক্তার।

অভিযোগ দায়েরের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধ করে আসেন তারা যেন দুইপক্ষকের উপস্থিতিতে গাছগুলোর ডাল কেটে দেন। তারই প্রেক্ষিতে গত কিছুদিন আগে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি মানিক মিয়া ও কয়েকজনের উপস্থিতিতে ৮ গাছের মধ্যে ২ টি গাছের ডাল শ্রমিক দিয়ে কাটার সময় কাইয়ুম মিয়া খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসে বাঁধা দেয় এবং গালিগালাজ করেন।

প্রবাসী সুজন মিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান ,প্রায় ১৫ বছর আগে এই জমির মালিক ছিল বটিবন্দ গ্রামের বৃদ্ধ রোজিনা ও তার দুই মেয়ে। জমির সাথেই ছিল কাইয়ুম মিয়া ও সেলিম মিয়ার জমি। জমিতে যেন ওই বৃদ্ধা ফসল ফলাতে না পারেন ও জমিটি কাইয়ুম মিয়া ও সেলিম মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেন সেজন্য কাইয়ুম মিয়া ও সেলিম মিয়া জমির আইলের উপর কয়েকটি কড়ই গাছ রোপন করে। কড়ই গাছের শাখা প্রশাখা বড় হয়ে জমির উপর চলে যাওয়ায় জমিটি চাষাবাদে অনপুযোগী হয়ে পড়ে। ফলে ওই বৃদ্ধা জমিটি বিক্রি করে দেয়ার কথা বললে। কাইয়ুম মিয়া, সেলিম মিয়া জায়গাটি সস্তায় ক্রয় করার জন্য প্রস্তাব করে।পরে বৃদ্ধা রোজিনা ও তার দুই মেয়ে ন্যায্য দামে প্রবাসী সুজন মিয়ার কাছে বিক্রি করে। ফলে দ্বন্ধ সৃষ্টি হয় কাইয়ুম, সেলিম, তার আপন চাচা বাছেদ ও শাহাজান সুজন মিয়া ও তার পরিবারের সাথে ষড়যন্ত্র শুরু করে। জমি কিনার সময় কাইয়ুম মিয়া সুজন মিয়ার পরিবারের কাছে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে স্থানীয় প্রভাবশালী লোকের মাধ্যমে। তখন সুজন মিয়ার পরিবার চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন। কাইয়ুম মিয়ার কথামত তাকে ১ লক্ষ টাকা পরিবর্তে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা প্রদান করে সুজন মিয়া। কিন্তু জমি কিনে বিপাকে পড়ে সুজনের পরিবার। জমির উপরে কাইয়ুম মিয়ার লাগানো প্রায় ৮ থেকে ১০ টি বড় কড়ই গাছ থাকায় ফসলাদী উৎপাদন করতে পারেনা তারা।স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে সমাধান করতে না পেরে থানার আশ্রয় নেয় প্রবাসী সুজন মিয়ার স্ত্রী হাসিনা আক্তার। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত সার্পেক্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্তারুজ্জামান ও গণ্যমান্য ব্যক্তি মানিক মিয়াকে গাছের ডাল কাটার দায়িত্ব দিয়ে যায়। কথামত কয়েকটা গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে নতুন করে দ্বন্ধে জড়ায় কাইয়ুম ও প্রবাসী সুজনের পরিবার।

প্রবাসী সুজন মিয়ার স্ত্রী হাসিনা আক্তার বলেন,আমার স্বামী বেশ কিছুদিন ধরে ইতালীতে আছে।এরই মধ্যে আমার জমির উপর কাইয়ুম মিয়া ও সেলিম মিয়ার লাগানো কয়েকটা বড় বড় কড়ই গাছের ছায়ার কারনে জমিতে ফসল ফলাতে পারিনা। পরে থানায় অভিযোগ করি। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসে কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিয়ে যান। পরবর্তীতে মানিক মিয়া ও আক্তারুজ্জামান মেম্বারের উপস্থিতিতে ৮/১০ গাছের মধ্যে ২ টি গাছের ডাল কাটে। তারপর থেকে কাইয়ুম আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়াতে থাকে। আমাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি প্রদান করে।তার ভাই প্রবাসী সেলিম মিয়া এ আই দিয়ে আমার প্রবাসী স্বামীকে ছাগল চোর ও গলায় জুতার মালা পড়ানো অবস্থার ছবি বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। যার কারনে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। আমি এ ঘটনায় কাইয়ুম, তার ভাই সেলিম ও কাইয়ুমের স্ত্রী পুষ্পর বিরুদ্ধে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দেই।এই নিকৃষ্ট কাজের জন্য আমি তীব্র নিন্দা জানাই ও আইনের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার চায়।

এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি মানিক মিয়া জানান, কিছুদিন আগে বেলাবো থানার পক্ষ থেকে আমাকে ও আক্তার মেম্বারকে দায়িত্ব দেয়া হয়ছিল আমরা যেন জমির উপরের ডালগুলো কেটে দেই। যেদিন ডাল কাটার কথা সেদিন আক্তার মেম্বার উপস্থিত ছিল। ফলে আমার ও এলাকার কয়েকজনের সামনে শামীম নামে এক শ্রমিক দিয়ে ২ টা গাছের ডাল কাটি। পরে কাইয়ুম ও তার স্ত্রী পুষ্প এসে গালাগালি করলে আমরা গাছকাটা বন্ধ করে চলে যায়।

গাছ কাটতে আসা শামীম মিয়া জানান, আমাকে আক্তার মেম্বার, মানিক মিয়া ও কাইয়ুম মিয়া ফোনে গাছের ডালা কাটতে প্রস্তাব দেয়। পরেরদিন আমি ডালা কাটার জন্য আসি।২ টা গাছের ডালা কাটার পর কাইয়ুম মিয়া এসে আমাদের গালাগালি করলে আমি গাছের ডালা কাটা বন্ধ করে চলে যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্তারুজ্জামান আক্তার বলেন,গাছের ডাল কাটার দিন আমার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু পরে আমাকে ছাড়াই তারা গাছ কেটে ফেলে।

এ ব্যাপারে কাইয়ুম মিয়ার বক্তব্য নিতে তার বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের কাছে কোন বক্তব্য দিবেনা বলে জানান। পরে তার ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার ফোন করার পরও সে মোবাইল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বেলাবো থানার এসআই ও তদন্তকারী কর্মকর্তা সুব্রত দাস জানান,ঘটনাটি প্রায় ৬ মাস আগের কাইয়ুম মিয়ার কড়ই গাছের ডালের কারনে ফসল না করতে পারায় হাসিনা নামে একজন থানায় অভিযোগ করে। আমরা এলাকায় গিয়ে স্থানীয় মেম্বার,মানিক মিয়াসহ কয়েকজন প্রভাবশালীকে দায়িত্ব দিয়ে আসি তারা যেন গাছের ডালগুলো কেটে দেয়। এরপর শুনেছি মানিক মিয়ার উপস্থিতিতে কয়েকটা ডাল কাটা হয়।তবে ঘটনাটি মিমাংসা করার জন্য উভয় পক্ষকে থানায় কয়েকবার ডেকেছি। এখনো মিমাংসা হয়নি।তবে আমি আশাবাদী ঘটনাটি মিমাংসা করা যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: মোঃ নাহিন খান
raytahost-tmnews71