
রাজধানীর বাড্ডা ও ভাটারায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই বিস্তৃত হয়েছে একটি সুসংগঠিত জুয়া সিন্ডিকেট, যার কেন্দ্রে আমান ও দিলীপ কুমার নামে এলাকার অতি পরিচিত অবৈধ ব্যবসায়ী, এলাকাবাসীর কাছে এক আতঙ্কের প্রতীক। একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও দিলীপের প্রভাব কমেনি; বরং অভিযোগ, ক্ষমতার ছায়ায় আরও শক্তিশালী হয়েছে সে।
স্থানীয়দের স্পষ্ট বক্তব্য- মামলা আছে, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেই। অভিযোগ উঠেছে, থানার ওসি ও ওসি (তদন্ত)-এর নাম ভাঙিয়ে “উপরে কথা আছে” বার্তাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এই চক্র প্রভাব বিস্তার করছে। ফলে ভয় আর নীরবতাই হয়ে উঠেছে বাড্ডা- ভাটারার নতুন বাস্তবতা।
ছোট পরিসর থেকে শুরু হয়ে এখন এটি পূর্ণাঙ্গ সিন্ডিকেটে রূপ নিয়েছে- নিয়ন্ত্রিত জুয়ার আসর, কঠোর নজরদারি, আর প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের লেনদেন এই নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আমানের অবস্থান বদল এবং দিলীপকে আশ্রয় দিয়ে ইনভেস্টার পার্টনার হিসেবে প্রতিষ্ঠার অভিযোগ এই চক্রের পেছনের শক্তিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। সচেতন মহলের দাবি- দিলীপ কুমারকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাড্ডা–ভাটারার বাস্তবতা এখন একটাই প্রশ্ন তোলে- আইন কি কার্যকর, নাকি প্রভাবশালীদের ছায়ায় তা কেবলই নিস্তব্ধ দর্শক? আমান ও দিলীপ কুমার জুটির এর অবৈধ এই ব্যবসা চলতেই থাকবে দিনের পর দিন। কেউ কি কিছুই বলবে না, বলার কি কিছুই নেই তাদের বিরুদ্ধে। সাধারণেরা কি শুধুই নিরব দর্শকের ভূমিকা নিয়েই চেয়ে চেয়ে দেখবে?

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে আমান। ছবি- সংগৃহীত