
অভিযোগ ও ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে নাম উঠে এসেছে “গুলশান ডিগ্রি কলেজ” এর ভেতরের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক গুলশান কলেজের কর্মরত কর্মকর্তা মনোয়ার ও তার সহযোগী সহকর্মী।
পরীক্ষার অভিযোগ ও ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে নাম উঠে এসেছে “গুলশান ডিগ্রি কলেজ” এর ভেতরের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক গুলশান কলেজের কর্মরত কর্মকর্তা মনোয়ার ও তার সহযোগী সহকর্মী ।হলে বসার আগে কক্ষ নম্বর জানা, পরীক্ষাকেন্দ্রের অবস্থান নিশ্চিত করা কিংবা পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ-এসব মৌলিক সেবা পাওয়ার জন্যই শিক্ষার্থীদের একটি প্রভাবশালী চক্রের কাছে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তথ্য প্রদান ও কথিত ‘সহযোগিতার’ নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের মানসিকভাবে ভীতসন্ত্রস্ত করে রাখা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পরীক্ষার পূর্বে কক্ষ নম্বর ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কলেজের বাইরে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে খাবার, আপ্যায়ন ও অন্যান্য খরচের বোঝাও শিক্ষার্থীদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের দাবি , গুলশান ডিগ্রী কলেজের কর্মকর্তা “মনোয়ার” ও তার “সহযোগী সহকর্মী” তাদের দুজনকে, প্রতি পরীক্ষার জন্য, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের মাধ্যমে একজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মনোয়ার নামের এক ব্যক্তিসহ তার কয়েকজন সহযোগীর নাম। তবে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো, অর্থ প্রদানে অনীহা প্রকাশ করলে পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হতে পারে- এমন আশঙ্কা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, হল ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষার পরিবেশ কিংবা অন্যান্য বিষয়ে অসহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর নীরব চাপ সৃষ্টি করা হয়।
অনুসন্ধানী সূত্রে আরও জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কলেজের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে পরীক্ষার হলকে ‘নকলের উপযোগী পরিবেশ’ তৈরি করে দেওয়ার নামে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ইতোমধ্যে একাধিক ভিডিও ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্র পরিবেশকে ব্যবহার করে যদি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং প্রভাব বিস্তারের এমন সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, তবে তা শুধু শিক্ষা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে না; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নৈতিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেবে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ভিডিওসহ আরও বিস্ফোরক তথ্য আসছে…
অনুসন্ধানী দলের হাতে থাকা ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই অভিযোগের আরও বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হবে পরবর্তী পর্বে ।
